About Us

নতুন ধারার শিক্ষা,বদলে দেবে বাংলা

শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের বর্তমান অবস্থা,আগামীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে লিলাক এডুকেশন এর একটি বিশেষ শিক্ষা ব্যবস্থাপনা মূলক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ অনলাইন স্কুল। বাংলাদেশের আগামীর ভবিষ্যত তৈরির এক বিশ্বস্ত সহযোগী।

BOS কি?

Bangladesh Online School (BOS) বাংলাদেশ অনলাইন স্কুল, লিলাক এডুকেশন এর একটি বিশেষায়িত অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে বাংলাদেশ এর যে কোন জায়গা থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সংযুক্ত হয়ে ,অনলাইনের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা আদান প্রদান করতে পারেন।

আমাদের উদ্দেশ্য

বাংলাদেশ অনলাইন স্কুল এর উদ্দ্যেশ্য হলো ঘরে বসে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করা, ভালো শিক্ষক ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা যেনো শিক্ষার আলো ঘরে বসে মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারেন। শিক্ষার্থীরাও যেনো ঘরে বসে স্বল্প খরচে ভাল শিক্ষক এবং  শিক্ষা পান। সর্বোপরি, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার উন্নয়ন করা।

প্রতিষ্ঠাতার কথা

Founder: DH Sakib 

Founder of Lilac Group of Companies

আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি শিক্ষা ছাড়া কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং দেশ উন্নয়ন করতে পারে না। আমার কাছে  শিক্ষা মানে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বাস্তবমুখী শিক্ষা।যে শিক্ষা আপনার জীবন, চিন্তাচেতনা ও দেশের  উন্নয়ন করতে পারে না, তাকে আমি শিক্ষা বলতে আগ্রহী নই। অনেককেই বলতে শুনি ” অনেক বড় মানুষ হয়েছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করেনি!” হা এটা সত্য কিন্তু আমাদের চিন্তা চেতনা মিথ্যা! বড় হওয়া মানুষগুলোর হয়ত সার্টিফিকেট নেই কিন্তু তারা জীবন থেকে শিখেছে, চলতে চলতে হাজারটা মানুষের কাছ থেকে শিখেছে। শিখেছে বলেই জীবনে কিছু করতে পেরেছে, এটাই বাস্তবমুখী শিক্ষা। আমি চাই লিলাক গ্রুপ এর অন্তর্ভুক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাস্তবমুখী শিক্ষা প্রদান করুক। লিলাক এডুকেশন আমি তৈরি করেছিলাম, এই বাস্তবমুখী শিক্ষার জন্যই।  

একটি ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান (E-technology based company) তৈরি করতে গিয়ে, কেনো অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করলাম?

লিলাক গ্রুপ তৈরি করার জন্য আমাকে দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা ও পড়াশোনা করতে হয়েছে। রাজউক কলেজে ক্লাস-১২ এ পড়াশোনা করার সময় এই পরিকল্পনা শুরু হয়। আমার ভবিষ্যতের প্রয়োজন অনুযায়ী একই সময়ে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। বেসরকারীতে কম্পিউটার ইঞ্জেনিয়ারিং (CSE) , সরকারীতে ব্যবসা শিক্ষা ( BBA) , সাথে সাথে মনোবিজ্ঞানসহ অনেক কোর্স। এবার সময় হলো প্রতিষ্ঠান তৈরি করার। প্রতিষ্ঠান শুরু করার পর বুঝতে পারলাম দক্ষ লোক নেই। ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের, বন্ধু ও পরিচিতরা- মার্কেটিং , ম্যানেজমেন্ট বুঝে না, কম্পিউটার ইঞ্জেনিয়ারিং বিভাগের এরা সফটওয়্যার এর কাজ পারে না। পারবে কি করে? ব্যবসা শিক্ষায় সারাজীবন সংঙ্গা আর গদবাধা পড়া মুখস্ত করে কি বাস্তব জীবনে সার্ভিস দেয়া সম্ভব? ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কোনো দিনো একটা ভাষা বা প্রোগ্রাম সম্পূর্ন শিখাতে দেখলাম না।তাহলে পারবেন কি করে? এখন কি করার ? 

সব বিবেচনা করে দক্ষ লোকের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হলো লিলাক গ্রুপ এর অংঙ্গ প্রতিষ্ঠান ” লিলাক এডুকেশন”। তারপর অনেক সময় কেটে গেছে, লিলাক এডুকেশন আজ লক্ষ মানুষের বাস্তবমুখী শিক্ষার সহযোগী- হোক সেটা ইংরেজী  , প্রযুক্তি , ইসলামিক , ব্যবসা , নতুনত্ব, লিখালিখি অথবা ক্যারিয়ার তৈরির জন্য। আমাদের সকল শিক্ষাই বাস্তবমুখী ও প্রায়োগিক। এতো কিছুর পরও একটা সমস্যা রয়ে যায়। যখন প্রযুক্তি সহ অন্যান্য বিভাগে শিখাতে যাওয়া হয় তখন বাস্তবমুখী শিক্ষা বুঝতে পারে না। প্রাথমিক জ্ঞানের সমস্যা ধরা পড়ে ।তখন বুঝতে পারি যে প্রাথমিক পর্যায় থেকে পরিবর্তন আনতে হবে। তার উপর করোনার কারনে ( ২০২০-২১) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর, শিক্ষা জীবন ব্যবস্থা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ। এই পরিবর্তিত পৃথিবী , আগামীর ভবিষ্যৎ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে , সকলের জন্য নিয়ে আসা হয় “বাংলাদেশ অনলাইন স্কুল” ।

বাংলাদেশ অনলাইন স্কুল এর পথচলাঃ

বাংলাদেশ অনলাইন স্কুল এর মাধ্যমে, যে কোনো ভালো শিক্ষক, ঘরে বসে শিক্ষার্থী পড়ানোর সুযোগ পাবেন। এমনকি যারা জ্ঞানী ব্যক্তি, তারা নিজের সুবিধামতো সময়ে নিজের জ্ঞান সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ পাবেন। যে কোনো ধরনের কল্যানমূলক শিক্ষা কার্যক্রম এর পাশে অবশ্যই আমরা আছি। বাংলাদেশ অনলাইন স্কুল সকলের জন্য উম্মুক্ত। প্রতিটি শিক্ষক এর পোর্টফোলিও দেয়া হবে, যাতে করে নিজের শিক্ষকতার পরিচয় দিতে পারেন।

শিক্ষার্থীরাও দেশের অথবা দেশের বাইরের যে কোনো জায়গা থেকে শিক্ষার সুযোগ পাবেন। ঘরে বসে যে কোন ভালো শিক্ষকের কাছে জ্ঞান অর্জন এর সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে, আগামীর ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে। আমরা সব কিছু তত্ত্বাবধানে রাখব কিন্তু শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদেরও সচেতন থাকতে হবে এবং একই সাথে আন্তরিক হতে হবে। আমার প্রচেষ্ঠা ও উদ্দেশ্য যতই ভালো হোক , বাংলাদেশ অনলাইন স্কুল এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সকলের আন্তরিকতা, চিন্তাচেতনা ও সহযোগিতার উপর।

পড়ানোর ধরনঃ

আমি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যখন শিক্ষার্থী পড়াতাম, তখন একটা বিষয় খুব ভালোভাবে খেয়াল করেছি, সেটা হলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি সার্টিফিকেট কেন্দ্রিক। তখন আমি একটা কথা বলতাম সবাইকে, “আমি বই এর সবই পড়াবো, প্রয়োজনে বেশি পড়াবো কিন্তু কোনো কিছু বাদ দেয়া যাবে না”। কেউ যখন বই এর সব পড়ে,বই এর লিখা ও শিক্ষাকে অনুধাবন করে, তখন রেজান্ট এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তাই সকল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ রইল- বই ও বিষয়কে অনুধাবন করুন। জেনে, বুঝে এবং অনুধাবন করে পরীক্ষা দিয়ে, সার্টফিকেট পেলে সেটা জীবনে কাজে লাগবে।আর না জেনে, না বুঝে মুখস্ত করে সার্টিফিকেট পেলে সেটার কোন মূল্য নেই।কারন পৃথিবীর পরিবর্তন হচ্ছে, ভিতরে কিছু না থাকলে বেশি দূর এগোতে পারবেন না। আর ভিতরে কিছু থাকলে, সার্টিফেট ছাড়াও অনেকদূর যেতে পারবেন। আমি বলব বাস্তবমূখী শিক্ষা মানে হলো, কোনো বিষয়কে অনুধাবন করা এবং তার উপর ভিত্তি করে কাজ করা।

আমরা অনেকেই সরকারকে দোষ দেই, শিক্ষাব্যবস্থাকে দোষ দেই! কিন্তু আমার মতে আগে নিজেকে পরিবর্তন করা দরকার। সার্টিফিকেট নির্ভরতা থেকে বের হয়ে যখন, প্রকৃত শিক্ষার দিকে যেতে পারব তখনই আমাদের জাতিগত পরিবর্তন হবে।যারা লিখাটা পড়ে অনুধাবন করতে পারবেন তারা আশা করি শিক্ষকদের বলবেন না ,আমার সন্তান যেনো এ+ পায় বা ভালো রেজাল্ট করে, তার পরিবর্তে বলুন আমার সন্তান যেনো শিখতে পারে। আর শিক্ষকগণও বলুন, আপনার সন্তান ভালো মতো শিখবে।রেজাল্ট সেটাতো জীবনযুদ্ধই বলে দিবে। বাংলাদেশ এর মতো জনবহুল দরিদ্রদেশে মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা করা, সরকার এর জন্য কঠিন হয়ে যায়। যখন অভিভাবকও সার্টিফিকেট কেন্দ্রিক চিন্তা করে, তখন বিষয়টা আরো কঠিন।সরকারকে সবার কথা চিন্তা করতে হয়, কিন্তু ব্যক্তি তো নিজের ও পরিবার এর কথাই চিন্তা করে, তাহলে আমরা নিজের মান, কেনো তৈরি করতে পারছি না? আমাদের উদ্দেশ্য মানসম্মত ও বাস্তবমূখী শিক্ষা, সবার জন্য শিক্ষা নয়। বাংলাদেশ অনলাইন স্কুল সকলের জন্য হলেও এর পরিধি অপেক্ষাকৃত ছোট। তাই সকলে মিলে এর মান ধরে রাখব বলে আমি আশা করি।

পরিশেষে বলতে চাই, আমি সাধারন একজন মানুষ। মাটি থেকে তৈরি আবার কোন একদিন এই মাটিতেই হারিয়ে যাব।হয়ত কিছু কর্ম রেখে যাব। অনেক শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই বাংলাদেশ। আমাদের সকলের উচিত নিজের জায়গা থেকে দেশের জন্য এগিয়ে আসা, দেশের উন্নয়নে সহযোগীতা করা। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, বাংলাদেশ অনলাইন স্কুলের মাধ্যমে, মানসম্মত শিক্ষা ঘরে ঘরে পৌছে দেয়ার।আশা করছি সকলে সহযোগী হবেন।